ফুড কালার কি ক্ষতিকর? অনুমোদিত রং, প্রাকৃতিক রং ও কারখানার জন্য নিরাপদ ব্যবহার

Spoon of liquid red food colour held over flour

অনুমোদিত food-grade ফুড কালার নির্ধারিত মাত্রায় এবং সঠিক খাবারে ব্যবহার করলে সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সমস্যা তৈরি হয় তিনভাবে: খাবারে টেক্সটাইল বা শিল্প-কারখানার রং (যেমন মেটানিল ইয়েলো বা রোডামিন বি) মেশানো, অনুমোদিত রং অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করা, আর কোনো মান-সনদ (COA) ছাড়া অজানা উৎসের রং কেনা। প্রাকৃতিক রং যেমন বিটা-ক্যারোটিন, পাপরিকা, হলুদের কারকিউমিন বা অ্যান্থোসায়ানিন অনেক কারখানার জন্য ভালো বিকল্প। DE International ছোট পরিমাণে ফুড কালার ও ফুড ইনগ্রেডিয়েন্ট চীন থেকে বাংলাদেশে door-to-door পৌঁছে দেয়, আর আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান Shenzhen Phoenix Rising Technology LC অর্ডার ও কারখানা যাচাইয়ের কাজ করে।

Spoon of liquid red food colour held over flour

ফুড কালার আসলে কী এবং কেন ব্যবহার করা হয়?

ফুড কালার হলো এমন রং যা খাবার বা পানীয়ের চেহারা আকর্ষণীয় বা নির্দিষ্ট মানের রাখতে যোগ করা হয়। কারখানায় তৈরি খাবারে প্রক্রিয়াকরণের সময় তাপ, আলো আর সংরক্ষণের কারণে স্বাভাবিক রং অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। যেমন আমের জুসের রং বোতলে কয়েক সপ্তাহ পর ফিকে হতে পারে, আবার বিস্কুট বা সস ব্যাচ থেকে ব্যাচে আলাদা রঙের দেখাতে পারে। ক্রেতা দোকানে রং দেখেই অনেক সময় মান বিচার করেন, তাই কারখানাগুলো একই রকম রং ধরে রাখতে ফুড কালার ব্যবহার করে।

ফুড কালার মূলত তিন ধরনের: কৃত্রিম বা সিন্থেটিক রং (যেমন টারট্রাজিন, সানসেট ইয়েলো, কারমোইসিন, পনসো ফোর আর, অ্যালুরা রেড), প্রাকৃতিক উৎস থেকে নেওয়া রং (যেমন বিটা-ক্যারোটিন, অ্যানাটো, পাপরিকা এক্সট্র্যাক্ট, কারকিউমিন, অ্যান্থোসায়ানিন, ক্লোরোফিল, স্পিরুলিনা), এবং ক্যারামেল কালার, যা সয়া সস, কোলা, বেকারি ও মসলায় বাদামি রঙের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

তাহলে ফুড কালার কখন ক্ষতিকর হয়?

বাংলাদেশে খাদ্যে রং নিয়ে বেশিরভাগ ভয়ের পেছনে আসল কারণ হলো ভেজাল রং, অনুমোদিত ফুড কালার নয়। বিভিন্ন সময় বাজার অভিযানে মিষ্টি, জিলাপি, চানাচুর, মসলা বা শরবতে কাপড় রাঙানোর রং পাওয়া গেছে। এই ধরনের শিল্প রং খাবারের জন্য তৈরি হয় না, এগুলোর বিশুদ্ধতা যাচাই করা থাকে না এবং এগুলোতে ভারী ধাতু বা অন্য ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। সস্তা হওয়ায় কিছু অসাধু বিক্রেতা এগুলো ব্যবহার করে।

দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো মাত্রা। অনুমোদিত রংও প্রতিটি খাবারের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ মাত্রার মধ্যে ব্যবহার করার কথা। অনুমানে বেশি রং দিলে খাবার অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দেখায় এবং নিয়ম ভঙ্গ হয়। তৃতীয় বিষয় হলো সংবেদনশীলতা। ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে ছয়টি কৃত্রিম রং (টারট্রাজিন, কুইনোলিন ইয়েলো, সানসেট ইয়েলো, কারমোইসিন, পনসো ফোর আর, অ্যালুরা রেড) থাকা খাবারের লেবেলে শিশুদের মনোযোগ ও আচরণের ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন সতর্কবার্তা লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়। এর মানে এই নয় যে রংগুলো নিষিদ্ধ, কিন্তু এ কারণেই অনেক ব্র্যান্ড শিশুদের খাবারে প্রাকৃতিক রঙের দিকে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক রং কি সবসময় ভালো বিকল্প?

প্রাকৃতিক রং ক্রেতার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য, কিন্তু কারখানার দৃষ্টিতে এগুলো কিছুটা বেশি যত্ন দাবি করে। প্রতিটি প্রাকৃতিক রঙের নিজস্ব দুর্বলতা আছে, আর সেগুলো না জেনে বদল করলে পণ্যের রং দোকানের তাকেই বদলে যেতে পারে।

প্রাকৃতিক রংরঙকোথায় ভালো কাজ করেসতর্কতা
কারকিউমিন (হলুদ)উজ্জ্বল হলুদচানাচুর, নুডলস মসলা, বেকারিআলোতে ফিকে হয়; স্বচ্ছ বোতলে সমস্যা
বিটা-ক্যারোটিনহলুদ থেকে কমলাজুস ড্রিংক, কনফেকশনারি, মার্জারিনঅক্সিজেনে নষ্ট হতে পারে; সঠিক ফর্ম (পানিতে দ্রবণীয় বা তেলে) বেছে নিতে হয়
পাপরিকা এক্সট্র্যাক্টকমলা-লালমসলা, সস, স্ন্যাকসতেলে দ্রবণীয়; পানীয়ের জন্য বিশেষ ফর্ম লাগে
অ্যানাটোহলুদ-কমলাচিজ, বেকারি, স্ন্যাকসঅম্লীয় পানীয়ে স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করতে হয়
অ্যান্থোসায়ানিনলাল থেকে বেগুনিঅম্লীয় পানীয়, জেলি, ক্যান্ডিpH বদলালে রং বদলায়; কম অম্লীয় পণ্যে নীলচে হতে পারে
ক্লোরোফিল বা কপার ক্লোরোফিলিনসবুজক্যান্ডি, বেকারি সাজসজ্জাতাপ ও অম্লে রং বদলাতে পারে
ক্যারামেল কালারহালকা থেকে গাঢ় বাদামিসয়া সস, কোলা, বিস্কুট, মসলাক্লাস (I থেকে IV) পণ্য অনুযায়ী বেছে নিতে হয়

যেমন, আমের জুসে কৃত্রিম হলুদের বদলে বিটা-ক্যারোটিন ভালো কাজ করতে পারে, কিন্তু পানিতে দ্রবণীয় ইমালশন ফর্ম না নিলে বোতলের ওপরে রঙের স্তর ভেসে উঠতে পারে। আবার লিচু বা স্ট্রবেরি ফ্লেভারের পানীয়তে অ্যান্থোসায়ানিন সুন্দর লাল রং দেয়, তবে পানীয়ের অম্লতা কম হলে রং বেগুনি বা নীলচে দিকে যেতে পারে। এজন্য রং বদলানোর আগে নিজের পণ্যে ছোট পরীক্ষা করা জরুরি। ক্যারামেল কালারের ক্লাস নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন আমাদের ক্যারামেল কালার ক্লাস গাইডে।

বাংলাদেশে ফুড কালার নিয়ে কোন সংস্থা কাজ করে?

বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর অধীনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) খাদ্যে সংযোজন দ্রব্য বা ফুড অ্যাডিটিভ ব্যবহারের বিষয়ে নিয়ম ঠিক করে ও তদারকি করে। অনেক প্যাকেটজাত খাবারের মান সনদের জন্য BSTI কাজ করে। কোন রং কোন খাবারে কত মাত্রায় অনুমোদিত, তা সময়ের সাথে হালনাগাদ হয়, তাই উৎপাদন শুরুর আগে সর্বশেষ বিধি BFSA ও BSTI থেকে নিশ্চিত করুন এবং প্রয়োজনে একজন খাদ্য প্রযুক্তিবিদের পরামর্শ নিন। আমদানির সময় কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের ফুড অ্যাডিটিভ আমদানির কাগজপত্র ও COA গাইডে।

কারখানা নিরাপদ ফুড কালার কীভাবে কিনবে?

  • শুধু food-grade লেখা রং কিনুন: প্যাকেটে রঙের নাম, E নম্বর বা INS নম্বর, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ থাকতে হবে।
  • প্রতিটি ব্যাচের COA চেয়ে নিন: Certificate of Analysis এ বিশুদ্ধতা, ভারী ধাতু (যেমন লেড, আর্সেনিক) এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল থাকে। COA পড়তে না জানলে আমাদের সাহায্য নিন।
  • নমুনা দিয়ে নিজের পণ্যে পরীক্ষা করুন: একই রং বিভিন্ন খাবারে ভিন্ন আচরণ করে।
  • খোলা বাজারের লেবেলবিহীন রং এড়িয়ে চলুন: সস্তা হলেও এতে ভেজালের ঝুঁকি বেশি এবং অভিযানে কারখানার সুনাম নষ্ট হতে পারে।
  • হালাল সনদ দেখুন: কিছু রং বা ক্যারিয়ারে প্রাণীজ উৎসের উপাদান থাকতে পারে, তাই হালাল সনদ নিশ্চিত করুন।
  • লেবেলে রঙের নাম লিখুন: প্যাকেটে ব্যবহৃত রং ঘোষণা করা ক্রেতার আস্থা বাড়ায় এবং নিয়ম মানতেও সাহায্য করে।

মাপার সময় কোন ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়?

ছোট কারখানায় সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো চামচ বা চোখের আন্দাজে রং দেওয়া। রং খুব অল্প মাত্রায় ব্যবহৃত হয়, তাই সামান্য ভুলেও মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। একটি নির্ভুল ডিজিটাল ওজন যন্ত্র ব্যবহার করুন, প্রথমে রঙের একটি ঘন দ্রবণ বা প্রিমিক্স তৈরি করুন, তারপর সেই দ্রবণ মেপে মূল ব্যাচে দিন। প্রতিটি ব্যাচে কত রং দেওয়া হলো তা খাতায় লিখে রাখুন। এতে ব্যাচ থেকে ব্যাচে রং একই থাকে, অভিযোগ এলে কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, আর পরিদর্শনের সময় রেকর্ড দেখানো যায়।

আরেকটি ভুল হলো রং সংরক্ষণ। অনেক রং আলো, তাপ ও আর্দ্রতায় নষ্ট হয়। বর্ষার সময় খোলা প্যাকেটের পাউডার রং জমাট বেঁধে যায় এবং সমানভাবে মেশে না। রং ঠান্ডা, শুকনো ও অন্ধকার জায়গায় মুখবন্ধ পাত্রে রাখুন এবং আগে কেনা স্টক আগে ব্যবহার করুন।

ক্রেতা হিসেবে ভেজাল রং কীভাবে কিছুটা চিনবেন?

ল্যাব পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না, তবে কিছু লক্ষণ দেখে সতর্ক হওয়া যায়। খাবারের রং যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল বা চকচকে হয়, যেমন টকটকে কমলা জিলাপি বা অস্বাভাবিক লাল মসলা, তাহলে সন্দেহ করার কারণ আছে। খাবার খাওয়ার পর হাতে বা মুখে রং লেগে থাকলে, অথবা পানিতে ভেজালে খুব দ্রুত তীব্র রং ছাড়লে সেটিও একটি লক্ষণ হতে পারে। খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া রঙিন খাবারের চেয়ে লেবেলযুক্ত, ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদসহ প্যাকেটজাত পণ্য বেছে নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ।

মনে রাখবেন, রং উজ্জ্বল হলেই ক্ষতিকর নয়, আবার ফ্যাকাশে হলেই নিরাপদ নয়। এগুলো শুধু সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত। সন্দেহজনক কিছু দেখলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানো যায়। কারখানার মালিকদের জন্য এর শিক্ষা হলো, সঠিক ও ঘোষিত রং ব্যবহার করলে ক্রেতার আস্থা বাড়ে এবং অভিযানের ঝুঁকিও কমে।

চীন থেকে ফুড কালার আনবেন কীভাবে?

চীনে অনেক ফুড কালার ও ফুড ইনগ্রেডিয়েন্ট প্রস্তুতকারক আছে, কিন্তু সবার মান এক নয়। আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান Shenzhen Phoenix Rising Technology যে কারখানাগুলোর সাথে কাজ করে সেগুলো FSSC 22000, ISO 22000, HACCP বা ISO 9001 সনদপ্রাপ্ত, এবং হালাল (MUI সহ) ও কোশার পণ্য সরবরাহ করে। অর্ডারের আগে নমুনা ও COA দেওয়া হয়। ছোট পরিমাণে কেনার জন্য DE International নমুনা থেকে শুরু করে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও আপনার কারখানার দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, আর বড় LC অর্ডার ও কারখানা যাচাইয়ের কাজ সামলায় Phoenix Rising (শেনজেন)।

প্রাকৃতিক রঙের তালিকা দেখুন: Natural Food Colours। ক্যারামেল কালার: Caramel Colour। সব ফুড ইনগ্রেডিয়েন্ট: Food Ingredients। চীনে সোর্সিং এজেন্ট: China Sourcing Agent for Bangladesh। দামের ব্যাপারে আমরা কোনো আন্দাজের সংখ্যা দিই না; আপনার পণ্য ও পরিমাণ জানালে বর্তমান কোটেশন দেব।

FAQ

ফুড কালার কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
অনুমোদিত food-grade রং নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করলে সাধারণত নিরাপদ বিবেচিত হয়। ক্ষতির ঝুঁকি বেশি ভেজাল শিল্প রং, অতিরিক্ত মাত্রা এবং সনদবিহীন রঙে।

প্রাকৃতিক ফুড কালার কোনগুলো?
বিটা-ক্যারোটিন, পাপরিকা, অ্যানাটো, কারকিউমিন, অ্যান্থোসায়ানিন, ক্লোরোফিল, স্পিরুলিনা এবং ক্যারামেল কালার বহুল ব্যবহৃত।

কাপড়ের রং আর ফুড কালারের পার্থক্য কীভাবে বুঝব?
ফুড কালারের প্যাকেটে food-grade উল্লেখ, E বা INS নম্বর, ব্যাচ নম্বর ও COA থাকে। লেবেলবিহীন খোলা রং কিনবেন না।

বাংলাদেশে ফুড কালারের নিয়ম কে ঠিক করে?
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) এবং পণ্যভেদে BSTI। সর্বশেষ নিয়ম তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন।

চীন থেকে ছোট পরিমাণে ফুড কালার কে এনে দিতে পারে?
DE International ছোট পরিমাণ door-to-door পৌঁছে দেয়, আর Phoenix Rising LC অর্ডার সামলায়। WhatsApp +880 1750-859967।

আরও পড়ুন: চানাচুর, চিপস ও নুডলসে HVP এবং বাংলাদেশে খাদ্য আমদানির নিয়ম। See all our import services, browse the shop, read about our China sourcing and buying agent service, or contact us. WhatsApp: +880 1750-859967.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *