চীন থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আমদানি করার নিয়ম সংক্ষেপে এই: ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন, ভ্যাট নিবন্ধন (বিআইএন) ও আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) নিতে হবে; অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি বা টিটি করে সরবরাহকারীকে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে হবে; আর পণ্য পৌঁছালে সঠিক এইচএস কোডে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে শুল্ক-কর পরিশোধের পর কাস্টমস থেকে খালাস করতে হবে। সঙ্গে দেখতে হবে পণ্যটি আমদানি নীতি আদেশে নিষিদ্ধ বা শর্তযুক্ত কিনা এবং বিএসটিআই বা অন্য কোনো সংস্থার অনুমোদন লাগে কিনা। ডিই ইন্টারন্যাশনাল চীনে সোর্সিং থেকে শুরু করে শিপিং ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় আমদানিকারকদের সহায়তা করে।
নিচে ধাপে ধাপে প্রতিটি নিয়ম ব্যাখ্যা করা হলো। মনে রাখবেন, শুল্কহার ও কিছু নিয়ম প্রতি বাজেটে বদলাতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আপনার সিএন্ডএফ এজেন্ট বা আমাদের সঙ্গে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নিন। শুধু মেশিন আমদানির নিয়ম জানতে চাইলে পড়ুন চায়না থেকে মেশিন আমদানি করার নিয়ম।
আমদানি শুরুর আগে কোন কোন কাগজ লাগে?
| কাগজ | কোথা থেকে নিতে হয় | কেন দরকার |
|---|---|---|
| ট্রেড লাইসেন্স | সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ | ব্যবসার বৈধ পরিচয়; অন্য সব নিবন্ধনের ভিত্তি |
| ই-টিআইএন | জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন সিস্টেম | কর শনাক্তকরণ; আইআরসি ও ব্যাংকিংয়ে লাগে |
| বিআইএন (ভ্যাট নিবন্ধন) | এনবিআর-এর ভ্যাট অনলাইন সিস্টেম | আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম কর হিসাবের জন্য |
| আইআরসি | আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর | বাণিজ্যিক আমদানির জন্য আবশ্যক নিবন্ধন |
| ব্যাংক অ্যাকাউন্ট | বৈদেশিক বাণিজ্যের অনুমোদিত (এডি) ব্যাংক | এলসি খোলা বা টিটি পাঠানোর জন্য |
অনেক ক্ষেত্রে চেম্বার অব কমার্স বা ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যপদ সনদও আইআরসি আবেদনে চাওয়া হয়। প্রতিটি নিবন্ধন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন: আইআরসি, ট্রেড লাইসেন্স এবং বিআইএন।

কোন পণ্য আমদানি করা যাবে, কোনটি যাবে না?
বাংলাদেশে আমদানির নিয়ম ঠিক করে আমদানি নীতি আদেশ। এতে কিছু পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, আর কিছু পণ্য শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য — যেমন নির্দিষ্ট সংস্থার অনুমতি, মান সনদ বা পরীক্ষার রিপোর্ট লাগে। পণ্য কেনার আগেই এটি যাচাই করুন, কারণ পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর পর জানতে পারলে খালাস আটকে যায় এবং ডেমারেজ বাড়তে থাকে।
- বিএসটিআই: বাধ্যতামূলক তালিকাভুক্ত পণ্যের জন্য মান সনদ বা ছাড়পত্র লাগে। দেখুন বিএসটিআই সনদ।
- খাদ্যপণ্য: স্বাস্থ্য সনদ, বিশ্লেষণ সনদ এবং প্রয়োজনে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা।
- উদ্ভিদ ও কৃষিপণ্য: উদ্ভিদ সংগনিরোধ বা ফাইটোস্যানিটারি সনদ।
- ওয়্যারলেস ও টেলিকম যন্ত্র: বিটিআরসি-র অনাপত্তি।
- ওষুধ, প্রসাধনী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম: সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন।
- রাসায়নিক: কিছু রাসায়নিকের জন্য বিশেষ লাইসেন্স লাগে।
চীনা সরবরাহকারীকে বৈধভাবে টাকা পাঠানোর নিয়ম
বাণিজ্যিক আমদানিতে টাকা পাঠাতে হয় ব্যাংকিং চ্যানেলে। হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিক পথে টাকা পাঠালে কাস্টমসে মূল্য প্রমাণ করা কঠিন হয় এবং আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রধান দুটি পদ্ধতি:
- ঋণপত্র (এলসি): আপনার ব্যাংক নিশ্চয়তা দেয় যে সরবরাহকারী সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে টাকা পাবে। বড় অর্ডারে নিরাপদ, তবে মার্জিন ও ব্যাংক চার্জ আছে। পড়ুন এলসি গাইড।
- টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি): সরাসরি ব্যাংক থেকে সরবরাহকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো, নির্দিষ্ট সীমা ও শর্তের মধ্যে এলসিএ ফর্ম ব্যবহার করে। পড়ুন টিটি পেমেন্ট।
টাকা পাঠানোর আগে সরবরাহকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম কোম্পানির নামের সঙ্গে মেলে কিনা যাচাই করুন — ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা চাইলে সতর্ক হোন।
শিপিং ডকুমেন্ট: কোন কাগজ সঙ্গে আসতে হবে?
- কমার্শিয়াল ইনভয়েস: পণ্যের বিবরণ, পরিমাণ, একক মূল্য ও মোট মূল্য।
- প্যাকিং লিস্ট: কোন কার্টনে কী আছে, ওজন ও মাপ।
- বিল অব লেডিং বা এয়ার ওয়েবিল: সমুদ্র বা আকাশপথে পরিবহনের প্রমাণ।
- সার্টিফিকেট অব অরিজিন: পণ্য কোন দেশে তৈরি; কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধার জন্য প্রয়োজন।
- বীমা সনদ: এলসি শর্ত অনুযায়ী বা নিজের সুরক্ষার জন্য।
- পণ্যভিত্তিক সনদ: পরীক্ষার রিপোর্ট, স্বাস্থ্য সনদ, ফিউমিগেশন সনদ ইত্যাদি।
ইনভয়েস ও প্যাকিং লিস্টের তথ্যে অমিল থাকলে কাস্টমসে প্রশ্ন ওঠে। কাগজপত্রের তালিকা বিস্তারিত দেখুন প্রয়োজনীয় আমদানি কাগজপত্র।
কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও শুল্ক-কর কীভাবে হয়?
পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দর বা অন্য কোনো কাস্টমস স্টেশনে পৌঁছালে আপনার সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেন। কাস্টমস এইচএস কোড ও ঘোষিত মূল্য যাচাই করে শুল্কায়ন করে, প্রয়োজনে পণ্য কায়িক পরীক্ষা করে। এরপর শুল্ক-কর পরিশোধ করলে খালাসের অনুমতি মেলে।
আমদানিতে যে কর লাগতে পারে তার মধ্যে আছে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর। কোন পণ্যে কত হার, তা নির্ভর করে এইচএস কোডের ওপর — তাই এখানে আমরা কোনো হার লিখছি না। শুল্কহার বুঝতে পড়ুন আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও কর। কাস্টমস ঘোষিত মূল্যকে নিজস্ব রেফারেন্স মূল্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে; অস্বাভাবিক কম মূল্য দেখালে শুল্কায়ন মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।
লাইসেন্স ছাড়া অল্প পরিমাণে আনা কি সম্ভব?
নতুন উদ্যোক্তা বা অনলাইন বিক্রেতারা প্রায়ই অল্প পরিমাণ পণ্য দিয়ে শুরু করতে চান, যখন আইআরসি নেওয়া এখনো সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে ডোর-টু-ডোর কার্গো সার্ভিস একটি বিকল্প হতে পারে, তবে কোন পণ্য কোন পথে বৈধভাবে আনা যায়, তা পণ্যের ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। নিয়মিত ব্যবসা করতে চাইলে নিজের নামে নিবন্ধন করে আমদানি করাই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ। তুলনা দেখুন লাইসেন্স বনাম লাইসেন্স ছাড়া আমদানির খরচ এবং শিপিংয়ের জন্য decl.bd আমদানি গাইড।
নতুন আমদানিকারকদের সাধারণ ভুল
- পণ্য কেনার পর নিয়ম দেখা: শর্তযুক্ত পণ্যের অনুমতি না থাকলে বন্দরে মাল আটকে থাকে।
- ভুল এইচএস কোড: জরিমানা ও বিলম্বের কারণ হয়।
- ইনভয়েসে কম মূল্য দেখানো: কাস্টমস মূল্য সংশোধন করে, জরিমানাও হতে পারে।
- নমুনা ছাড়া বড় অর্ডার: মান খারাপ হলে টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন। পড়ুন নমুনা অর্ডার।
- সব খরচ হিসাব না করা: শিপিং, শুল্ক, সিএন্ডএফ চার্জ, পরিবহন যোগ করলে আসল খরচ বেরিয়ে আসে।
একটি উদাহরণ: প্রথম আমদানি ধাপে ধাপে
ধরা যাক ঢাকার একজন ব্যবসায়ী গুয়াংজু থেকে এলইডি লাইটের প্রথম চালান আনতে চান। তার কাজের ক্রম সাধারণত এমন হয়:
- ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন, বিআইএন ও আইআরসি হাতে আছে কিনা নিশ্চিত করা।
- এলইডি লাইটের এইচএস কোড বের করে শুল্কহার ও বিএসটিআই প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা।
- দুই-তিনটি কারখানা থেকে কোটেশন নিয়ে নমুনা আনানো এবং পরীক্ষা করা।
- প্রোফর্মা ইনভয়েস নিয়ে ব্যাংকে এলসি খোলা বা শর্ত অনুযায়ী টিটি করা।
- উৎপাদন শেষে শিপমেন্টের আগে মান পরিদর্শন করানো।
- সমুদ্রপথে চালান পাঠানো এবং মূল কাগজপত্র সংগ্রহ করা।
- চট্টগ্রামে পৌঁছালে সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি, শুল্ক পরিশোধ ও খালাস।
- ট্রাকে ঢাকার গুদামে আনা এবং কার্টন গুনে পণ্যের অবস্থা মিলিয়ে নেওয়া।
প্রতিটি ধাপে কোনো একটি কাগজ বা অনুমোদন বাকি থাকলে পরের ধাপ আটকে যায়। তাই অনেক নতুন আমদানিকারক প্রথম কয়েকটি চালানে একজন অভিজ্ঞ এজেন্ট বা সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেন।
কাগজপত্র সংরক্ষণ ও পরবর্তী নিরীক্ষা
পণ্য খালাসের পরও আমদানিকারকের দায়িত্ব শেষ হয় না। কাস্টমস পরবর্তী সময়ে খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা করতে পারে এবং ভ্যাট রিটার্নেও আমদানির তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। তাই প্রতিটি চালানের ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, বিল অব লেডিং, বিল অব এন্ট্রি, শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ এবং ব্যাংকের পেমেন্ট কাগজ গুছিয়ে সংরক্ষণ করুন। ব্যাংকও আমদানি পেমেন্টের বিপরীতে বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়ার বিষয়টি তদারকি করে। বিস্তারিত দেখুন আমদানির রেকর্ড সংরক্ষণ ও খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা।
ডেমারেজ ও বিলম্ব এড়াতে কী করবেন?
বন্দরে কন্টেইনার নির্দিষ্ট ফ্রি টাইমের পর পড়ে থাকলে শিপিং লাইনের ডেমারেজ ও বন্দরের স্টোরেজ চার্জ জমতে থাকে। কাগজপত্রে ভুল, শর্তযুক্ত পণ্যের অনুমোদন না থাকা, কিংবা শুল্কের টাকা প্রস্তুত না রাখা — এগুলোই বিলম্বের সাধারণ কারণ। জাহাজ পৌঁছানোর আগেই কাগজপত্র সিএন্ডএফ এজেন্টকে দিয়ে যাচাই করিয়ে নিন এবং শুল্কের আনুমানিক অঙ্ক হাতে রাখুন। পড়ুন ডেমারেজ ও ডিটেনশন চার্জ।
সিএন্ডএফ এজেন্ট কেন দরকার এবং কীভাবে বাছাই করবেন?
বাংলাদেশে কাস্টমস থেকে পণ্য খালাসের কাজ সাধারণত লাইসেন্সপ্রাপ্ত সিএন্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং) এজেন্টের মাধ্যমে হয়। তিনি আপনার পক্ষে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেন, শুল্কায়ন ও পরীক্ষার সময় উপস্থিত থাকেন এবং বন্দর থেকে মাল বের করার কাগজ সম্পন্ন করেন। এজেন্ট বাছাইয়ের সময় দেখুন তিনি আপনার পণ্যের ধরন নিয়মিত খালাস করেন কিনা, বিল আইটেম ধরে ধরে ভেঙে দেন কিনা, এবং সরকারি শুল্ক ও তার নিজের সার্ভিস চার্জ আলাদা করে দেখান কিনা। পড়ুন সিএন্ডএফ এজেন্ট কী।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
চীন থেকে পণ্য আমদানি করতে কী কী লাইসেন্স লাগে?
সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন, বিআইএন এবং আইআরসি। পণ্যভেদে বিএসটিআই বা অন্য সংস্থার অনুমোদনও লাগতে পারে।
চীনা সরবরাহকারীকে কীভাবে টাকা পাঠাব?
এডি ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি বা নির্ধারিত শর্তে টিটি করে। অনানুষ্ঠানিক পথে টাকা পাঠাবেন না।
আমদানি শুল্ক কত?
এইচএস কোড অনুযায়ী আলাদা এবং বাজেটে বদলাতে পারে। আপনার পণ্যের সর্বশেষ হার সিএন্ডএফ এজেন্টের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন।
ডিই ইন্টারন্যাশনাল কীভাবে সাহায্য করে?
সরবরাহকারী খোঁজা ও যাচাই, নমুনা, মান পরিদর্শন, শিপিং এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পর্যন্ত সহায়তা করে। যোগাযোগ: হোয়াটসঅ্যাপ +880 1750-859967।
প্রথম আমদানিতে কত সময় লাগে?
উৎপাদন সময়, শিপিং পদ্ধতি ও কাস্টমস প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। আপনার পণ্যের জন্য সময়সূচি আমাদের কাছে জেনে নিন।
প্রথমবার চীন থেকে আমদানি করছেন? ডিই ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং, পরিদর্শন, শিপিং ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে আপনার পাশে আছে। দেখুন আমাদের সার্ভিস, চায়না সোর্সিং ও বায়িং এজেন্ট, শপ, অথবা যোগাযোগ করুন — হোয়াটসঅ্যাপ +880 1750-859967।
